প্রকাশিত:
২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৮
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ। প্রচার–প্রচারণা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ। প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছে, যার কিছু গড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত।
নির্বাচনী ডামাডোল শুরুর পর থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কপি সংগ্রহ করছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ভোটারদের মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগও সামনে আসে। এসব অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বিএনপি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, জামায়াতের নির্বাচনী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডির কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের শামিল। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন এক সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহ ও উপহার দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে। তবে বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও এনআইডি সংগ্রহে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্যে জানা গেছে, সমালোচনার মুখে সাম্প্রতিক সময়ে সতর্কতা বাড়লেও এর আগে অনেক ভোটারের এনআইডি কপি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বিকাশ নম্বর চাওয়ার তথ্যও মিলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো, ভোটারদের কাছে বিশেষ বার্তা পৌঁছানো, এমনকি দরিদ্র ভোটারদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় অনৈতিকভাবে এনআইডির ডুপ্লিকেট কপি ব্যবহার করে এজেন্ট নিয়োগ বা ভোটে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের প্রবণতা দেখা গেছে বলে জানা যায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ভোটে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। দলটির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, নারী ভোটারদের বড় উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে জামায়াত জোটের বাইরের এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাবি করেছেন, নারী ভোটারদের বোরকা উপহার দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, বোরকা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের কার্যক্রম চিহ্নিত করা এতে কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ভোটারদের পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করলে প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অভিযোগ কমিশনে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার। তার দাবি, নারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জামায়াতের প্রতি নারীদের সমর্থন দেখে একটি বড় দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের অবস্থান অস্বীকার করলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কমিশন সবাইকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন: