প্রকাশিত:
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৭
গত ছয় মাসে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ২ হাজার বা ৫ শতাংশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জেন্ডার সমতাবিষয়ক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৬৪৯। চলতি বছরের প্রথমার্ধ (জানুয়ারি-জুন) শেষে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭৮২।
অর্থাৎ মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে আর্থিক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় দুই হাজার বা প্রায় ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের ছয় মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের ব্যাংকগুলোতে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, যাতায়াত সুবিধার মতো সূচকে অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে অফিস সময়ের পর নারীদের যাতায়াত সুবিধার। গত বছরের শেষ ছয় মাসে ব্যাংকগুলোতে ৫২ শতাংশ নারী এই সুবিধা পেতেন।
গত ছয় মাসে তা কমে ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৩ হাজারের বেশি, যার মধ্যে নারী কর্মী ১৭ শতাংশ। বাকি ৮৩ শতাংশ পুরুষ কর্মী। এ ছাড়া গত জুন শেষে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট কর্মীর ১৭ শতাংশ ছিল নারী।
অর্থাৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি পাঁচজন পুরুষ কর্মীর বিপরীতে নারী কর্মী প্রায় একজন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মীদের মধ্যে প্রারম্ভিক ও মধ্যবর্তী পর্যায়ে নারীদের অবস্থান বেশি। উচ্চ পদে কর্মরত নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অনেক কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংক খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো নীতিনির্ধারণী বা উচ্চপর্যায়ে এখনো নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। আবার উচ্চপর্যায়ে নারী কর্মীর ক্ষেত্রে দেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বেশি পিছিয়ে।
এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে নারী কর্মীর অংশগ্রহণের হার ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ১৪ শতাংশ। আর বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রমালিকানাধীন, বিশেষায়িত, বেসরকারি বাণিজ্যিক ও বিদেশি ব্যাংক—এই চার ধরনের ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী কর্মী বেসরকারি ব্যাংকে। গত জুন শেষে দেশের ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে মোট নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৫০ জন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারী কর্মী রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে। ছয়টি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে গত জুন শেষে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৪৮ জন। সবচেয়ে কম নারী কর্মী বিদেশি ব্যাংকে, ১ হাজার ৩২ জন। আর বিশেষায়িত তিন ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল এ সময়ে ১ হাজার ৯৫২ জন।
মন্তব্য করুন: