প্রকাশিত:
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:৪১
চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে নির্যাতন ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় উইঘুর এবং মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২০২২ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জিনজিয়াং অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলা হয়।
দ্য জাপান টাইমসের খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনের বাইরে জেনেভায় চীনের উইঘুর সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ককে বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চীনবিষয়ক গবেষক ইয়ালকুন উলুইয়ল বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের উচিত হবে চীনা সরকারকে জাতিসংঘের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে চাপ দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করা।
তুর্কের পূর্বসূরি মিশেল বাশেলেট ২০২২ সালের আগস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে জিনজিয়াংয়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।
চীনের তীব্র সমালোচিত ওই প্রতিবেদনটিতে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য নির্যাতন ও নির্বিচারে আটক রাখার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনটি চীনকে অবিলম্বে যাদের অবৈধভাবে স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে এবং নিখোঁজদের খোঁজ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দিতে আহ্বান জানায়।
২০১৭ সালে আটক হওয়া ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন উইঘুর কর্মী রিজওয়ানগুল নুর মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, ‘সুপারিশগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি’। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাই ছিলেন পরিবারের উপার্জনকারী, একজন বাবা, স্বামী, ছেলে, ভাই—একজন সাধারণ ও সৎ নাগরিক। এ সময় তিনি তার ভাইয়ের ছবিটি তুলে ধরেন।
সেখানে উপস্থিত এক চীনা কূটনীতিক বক্তব্যে দাবি করেন যে, নির্বিচারে আটক ও জোরপূর্বক নিখোঁজের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
চাইনিজ হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স-এর সহ-প্রধান সোফি রিচার্ডসন জানান, এটি যথেষ্ট পরিষ্কার যে এই নির্যাতনগুলো ব্যাপক ও পদ্ধতিগত। তিনি তুর্ককে এই পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পরিষদে প্রতিবেদন দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সুপারিশের ঘাটতি নেই। ঘাটতি আছে কেবল মানবাধিকার প্রধান এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্বে, যারা সাহসীভাবে চীনা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ও বেঁচে যাওয়া সকল মানুষের জন্য কণ্ঠ তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন: