শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

স্বাস্থ্যসেবা, সাইবার-সিকিউরিটি ও কৃষিতে নতুন বিপ্লব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:২৮

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবারসিকিউরিটি আজ বিশ্বব্যাপী গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে (চিত্র–১)। এই বিপ্লব মূলত এআই–এর বিভিন্ন ধরণ বা পরিবার—যেমন মেশিন লার্নিং (এমএল), ডিপ লার্নিং (ডিএল), ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) ও কম্পিউটার ভিশন (সিভি)-এর অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআই (জেনেরেটিভ এআই) ও ডিসক্রিমিনেটিভ এআই (ডিসক্রিমিনেটিভ এএই) আজ বহুমাত্রিক প্রয়োগে আলাদা ভূমিকা পালন করছে। এই প্রযুক্তিগুলিই স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, সাইবারসিকিউরিটি ও স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে।

গবেষণা বলছে, এই–চালিত সাইবারসিকিউরিটি সিস্টেম ম্যালওয়্যার শনাক্ত, সন্দেহজনক নেটওয়ার্ক কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং প্রেডিক্টিভ ডিফেন্স গড়ে তুলতে সক্ষম। কৃষিক্ষেত্রে প্রিসিশন এগ্রিকালচার প্রযুক্তি ফসলের রোগ সনাক্তকরণ, ফলন পূর্বাভাস ও ইনপুট ব্যবস্থাপনাকে সহজ করছে, যা বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রথমে, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার এবং এআই এর সম্পর্ক বোঝা দরকার। প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার হলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের চাষে নির্দিষ্ট, সময়োপযোগী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

এর উদ্দেশ্য হলো ফসলের স্বাস্থ্য, মাটি, পানি, সার এবং কীটনাশকের ব্যবহারকে অপ্টিমাইজ করা। এখানে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, এআই-ভিত্তিক ছবি শনাক্তকরণ এবং সেন্সর তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবহার করে ফসলের রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করা যায় খুব দ্রুত, যা মানবদেহ বা প্রচলিত চোখ দিয়ে দেখার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল।
দ্বিতীয়ত, ফসলের ফলন পূর্বাভাস এবং ইনপুট ব্যবস্থাপনা এআই এর মাধ্যমে আরও উন্নত হয়।

ড্রোন, স্যাটেলাইট ইমেজ, এবং সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্য এআই মডেল বিশ্লেষণ করে মাটির পুষ্টি, পানি পর্যাপ্তি এবং ফসলের বৃদ্ধির ধারা অনুযায়ী সঠিক সময় ও পরিমাণে সার, পানি ও কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। এটি খরচ কমায়, পরিবেশ রক্ষা করে এবং ফসলের স্বাস্থ্য ও উৎপাদন নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে, যেখানে খাদ্যনিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার এবং এআই একত্রে কাজ করলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসলের ক্ষতি কমানো এবং উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। অর্থাৎ, এআই শুধু তথ্য বিশ্লেষণই নয়, বরং কৃষকদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্যসেবায়ও এআই এখন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের হাতিয়ার।

এনপিজে ডিজিটাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, এআই–ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক সিস্টেম অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সমতুল্য নির্ভুলতা প্রদর্শন করছে, যা দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে| এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের মদিনায় ইউনিভার্সিটি অব প্রিন্স মুকরিনের সাইবারসিকিউরিটি ও ফরেনসিক কম্পিউটিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রহমান স্বাস্থ্যসেবায় এআই ও মেডিকেল ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ব্যবহার করে তিনটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন উপস্থাপন করেছেন।

প্রথমত, ক্যান্সার রোগীর জীবনমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যা মেডিকেল আইওটি ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহার করে রোগীদের বাসায় বসেই চিকিৎসকদের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রোগীর জীবনমান ডেটা সংগ্রহ করে। সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করলে বলা যায় যে - এই ব্যবস্থায় মেডিকেল এইওটি (ইন্টারনেট অফ থিংস) ব্যবহার করা হয়, যেমন – স্মার্ট ঘড়ি, সেন্সর বা মোবাইল অ্যাপ, যা রোগীর শরীরের বিভিন্ন তথ্য (যেমন ঘুম, চলাফেরা, ব্যথা, শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদি) রেকর্ড করে।

সংগৃহীত এই তথ্যগুলোকে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) বিশ্লেষণ করে, যাতে রোগীর অবস্থা সহজভাবে বোঝা যায় এবং ডেটা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। রোগীরা তাদের নিজ বাসায় থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, মানে হাসপাতালে না গিয়েও চিকিৎসক নিয়মিত তাঁদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সিস্টেমটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তথ্য সংগ্রহ করে, যাতে রোগীর জীবনমান কতটা উন্নত বা খারাপ হচ্ছে তা বিশ্বমানের মানদণ্ডে পরিমাপ করা যায়। অর্থাৎ, এই প্রযুক্তি ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাকে আরও মানবিক, সহজলভ্য এবং মানসম্মত করছে, কারণ রোগীরা বাসায় থেকেও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকছেন।

দ্বিতীয়ত, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিসলেক্সিয়া নির্ণয় এখন অনেক দ্রুত ও সঠিকভাবে করা সম্ভব। একটি বিশেষ ধরনের ট্যাবলেট বা কম্পিউটার ডিভাইসে ভিশন ট্রান্সফরমার (ভিআইটি) নামের এআই মডেল ব্যবহার করা হয়, যা শিশুর পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ফলাফল বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি রিপোর্ট তৈরি করে। এই রিপোর্ট থেকে বোঝা যায় কোন শিশু ডিসলেক্সিক এবং কোন শিশু স্বাভাবিক। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একবারে অনেক শিক্ষার্থীকে দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং সঠিকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব, যা স্কুল পর্যায়ে হাজারো শিক্ষার্থীর স্ক্রিনিংকে সহজ করে তোলে।

তৃতীয়ত, এই সিস্টেমটি একটি গেম-ভিত্তিক হোম থেরাপি ব্যবস্থা, যা হেমিপ্লেজিয়া বা ডিপ্লেজিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে বসেই নন-ইনভেসিভ থেরাপি গ্রহণের সুযোগ দেয়। রোগীরা চাইলে লাইভ থেরাপিস্ট বা এআই থেরাপিস্টের সহায়তা নিতে পারেন। প্রতিটি সেশনের পর রোগীর শরীরের রেঞ্জ অফ মোশন (আরওএম) এবং কিনেটিক সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেরাপিস্টের কাছে পৌঁছে যায়, যাতে তারা রোগীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী থেরাপি পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করতে পারেন। এইভাবে, রোগীরা বাড়িতেই কার্যকর থেরাপি পেতে পারেন এবং থেরাপিস্টরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে পারেন।

প্রফেসর ড. আবদুর রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো এআই ও মেডিকেল আইওটি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবা রোগীর ঘরে পৌঁছে দেওয়া—যাতে এটি হয় আরও মানবিক, সাশ্রয়ী ও কার্যকর।” আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই উদ্ভাবনগুলো চিকিৎসা সহজলভ্য ও সুলভ করে তুলবে। একইসঙ্গে এআইয়ের ব্যবহার সাইবারসিকিউরিটি, কৃষি ও নগর ব্যবস্থাপনাতেও টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর