প্রকাশিত:
২৬ আগষ্ট ২০২৫, ১৫:৪১
দীর্ঘদিন স্ত্রীকে নির্যাতন ও মারধরের ক্রোধের বলি হয়েছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাঠি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম শামীম (৩৬)। যুবদল নেতা হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি (২৮) ও স্ত্রীর মামাতো ভাই মো. ওবায়দুল্লাহ হাওলাদার ওরফে বাদল ওরফে ইমনের (১৭ বছর ৮ মাস) জবানবন্দিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে খুলনার পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ২২ আগস্ট রাতে নিজ বাড়ির তৃতীয় তলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী শামীমকে গলাকেটে হত্যা করে।
খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় নিহত শামীমের মা রশিদা খাতুন (৬২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার পরপরই বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে সোমবার পুলিশ নিহত শামীমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি ও তার মামাতো ভাই মো. ওবায়দুল্লাহ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়।
আদালতে বৃষ্টি ও ওবায়দুল্লাহর স্বীকারোক্তির রবাত দিয়ে টিএম মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বৃষ্টি জানায়, তার স্বামী শামীম শেখ বিয়ের পর থেকে তার জীবন অতিষ্ঠ করে তোলেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীকে খুন করার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার তিন দিন আগে তিনি তার মামাতো ভাই ওবায়দুল্লাহকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। তিনি তার ভাইকে শামীমকে হত্যা করার পরিকল্পনার কথা জানান। ভাই-বোনের পরিকল্পনায় নিজ বাড়ির তিনতলায় খুন হন যুবদল নেতা এসএম শামীম। বোনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওবায়দুল্লাহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে কুপিয়ে শামীমকে হত্যা করে। পরে তারা বাড়ির ছাদে উঠে অস্ত্রটি পাশের জলাশয়ে ফেলে দেন।
পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে উভয়ই হত্যার আদ্যপ্রান্ত বর্ণনা দিয়েছেন। হত্যা ঘটনার পর বৃষ্টি ও ওবায়দুল্লাহর আচরণ ছিল স্বাভাবিক। তারপরও পুলিশ আশপাশের সিসি ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতকদের শনাক্ত করে।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি ও ওবায়দুল্লাহ হাওলাদার আদালতে শামীম শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ওবায়দুল্লাহকে যশোর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল গ্রামের নিজ বাড়ির তৃতীয় তলায় খুন হন যুবদল নেতা ও কীটনাশক ব্যবসায়ী এস এম শামীম। শামীমের বাবা-মা গফ্ফার শেখ ও মা রশিদা বেগম দুজনেই প্রাথমিক স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। শনিবার বিকালে তালা উপজেলার উথালিগ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত শামীমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মন্তব্য করুন: