প্রকাশিত:
২৬ আগষ্ট ২০২৫, ১৫:১৬
আগামী সপ্তাহে চীন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামে ২০টিরও বেশি দেশের নেতাকে একত্রিত করবেন। এই সম্মেলনকে বলা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর শক্তিশালী সংহতির প্রদর্শনী। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত রাশিয়ার কূটনৈতিক বিজয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়াও মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও)’ শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের উত্তর বন্দর শহর তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই সম্মেলন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম চীন সফর। ফলে ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের একটি বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের পর এই প্রথম একমঞ্চে দেখা যাবে মোদি, পুতিন ও শি চিনপিংকে।
রাশিয়ার দিল্লি দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, মস্কো চায় চীন-ভারত-রাশিয়া ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হোক।
চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের সম্পাদক বিশেষজ্ঞ এরিক ওল্যান্ডার বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে শি চিনপিং দেখাতে চান, আমেরিকা-নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প কী হতে পারে।’ তিনি বলেন, ব্রিকস-এর সম্প্রসারণ যেভাবে ট্রাম্পকে উদ্বিগ্ন করেছে, ঠিক তেমনি এসসিও-এর মত জোটগুলোও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিশ্ব-রাজনীতির পালাবদল নির্দেশ করছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এসসিও-এর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় সম্মেলন এবং এই জোটকে তারা বলছে ‘নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি’।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসসিও এখনো বড় নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানে ব্যর্থ এবং জোটটির প্রকৃত লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন অনেকটাই অস্পষ্ট।
তক্ষশীলা ইনস্টিটিউটের গবেষক মনোজ কেওয়ালরামানি বলেন, ‘এসসিও একটি প্ল্যাটফর্ম, যার ডাকে অনেকেই সাড়া দেন। তবে এটি এখনো কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা হয়ে উঠতে পারেনি।’
এ বছরের এসসিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে এক যৌথ বিবৃতি অনুমোদন সম্ভব হয়নি, কারণ ভারত আপত্তি তোলে—কাশ্মীরে হামলার প্রসঙ্গ অনুপস্থিত নিয়ে। এ ছাড়া, এসসিও যখন ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানায়, তখনও ভারত তার সঙ্গে একমত হয়নি।
চীন-ভারত সাম্প্রতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক চাপে ভারতের ওপর বাড়তি কূটনৈতিক চাপ—এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, শি-মোদি বৈঠকে সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার, বাণিজ্য ও ভিসা বিধিনিষেধ শিথিলকরণ এবং জলবায়ু ও অন্যান্য খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ওল্যান্ডার বলেন, ‘ভারত সম্ভবত এই বছরের এসসিও-এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলো পাশ কাটিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্কে গতি আনার চেষ্টা করবে—এটাই মোদির বর্তমান অগ্রাধিকার।’
মোদি সম্মেলন শেষে চীন ত্যাগ করবেন সম্মেলন শেষে মোদি চীন ত্যাগ করলেও পুতিন বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে আরো কয়েক দিন চীনেই অবস্থান করবেন।
মন্তব্য করুন: