প্রকাশিত:
২৫ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:২৩
আজ সোমবার গাজায় নাসের হাসপাতালেও নৃশংস হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ফিলিস্তিনি তিনজন সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, নাসের হাসপাতালের হামলায় তাদের একজন ক্যামেরাম্যান নিহত হয়েছেন। বাকি তিনজন আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং এনবিসিতে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, প্রাথমিক হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় অন্যরা মারা যান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য নেই।
ভিডিও ফুটেজে দক্ষিণ গাজার প্রধান হাসপাতাল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। রয়টার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরিও রয়েছেন।
অন্যরা হলেন আল জাজিরার জন্য কর্মরত মোহাম্মদ সালামেহ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাকা এবং আমেরিকান টিভি নেটওয়ার্ক এনবিসিতে কর্মরত ফটোগ্রাফার মুয়াথ আবু তাহা।
এদিকে গাজা শহরে আবারও রবিবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বৃহত্তম এই শহরে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই চালানো এ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ইসরায়েলি বাহিনী শহরের আশপাশে একাধিক দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
শহরটি দখলের জন্য সামরিক প্রস্তুতি চলছে। আল-সাবরা এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাসাল আরো জানান, গাজার অন্যান্য এলাকাতেও বোমাবর্ষণ হয়েছে। তার ভাষায়, ‘নিহতের সংখ্যা বর্তমানে ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
আল-সাবরার বাসিন্দা ইব্রাহিম আল-শুরাফা এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহ। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে বোমা হামলায় মানুষ মারা যাচ্ছে, রক্ত ঝরছে। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। হামলা ও গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে।’
গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত এবং গণমাধ্যমের ওপর নানা বিধিনিষেধ থাকায় নিহতদের সংখ্যা এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি পরিকল্পিত দুর্ভিক্ষের কারণে গাজায় শিশুদের না খেতে পেয়ে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে তাদের হাতে আর কিছুই করার নেই। ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির জয়তুন ও সাবরা এলাকার বড় অংশে হামলা আরো জোরদার করেছে।
শহর দখল করে বাসিন্দাদের দক্ষিণ দিকে জোর করে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ৬৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
মন্তব্য করুন: