প্রকাশিত:
২৪ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:৫৯
নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই হাতে শাখা পরিহিত ও মাথার সিঁথিতে সিঁদুর লাগানো ৩ মুসলিম নারীকে একটি কীর্তন অনুষ্ঠান থেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। তবে তারা শাখা-সিঁদুর পরার কারণে আটক হয়নি। আটক হয়েছে কীর্তন অনুষ্ঠানে আসা হিন্দু নারীদের গলায় থাকা সোনার চেইন কৌশলে ছিনিয়ে নেওয়ার কারণে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষিকোল বাজারস্থ শ্রী শ্রী কালী মাতার মন্দিরে মহা হরিনাম ও লীলা কীর্তন অনুষ্ঠান থেকে তাদের আটক করা হয়। রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আটক তিন নারী হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে ও দুলাল মিয়ার স্ত্রী শামসুন্নাহান বেগম (২৮), একই গ্রামের কাজল হোসেনের মেয়ে ও আরিছ মিয়ার স্ত্রী লিপি আক্তার (৩০) এবং আবু মিয়ার মেয়ে ও হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রোজিনা খাতুন (২৬)।
স্থানীয়রা জানায়, দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে মৃত মন্টু কুন্ডুর স্ত্রী চায়না রানী (৫৫) কীর্তন উপলক্ষে বড়াইগ্রাম পৌরসভার লক্ষীকোল মহল্লায় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাখা-সিঁদুর পড়া তিনজন নারী কীর্তন অনুষ্ঠানে চায়না রানীর পাশে ঘিরে বসে।
এক পর্যায়ে কীর্তনের আবেগঘন আসর জমে উঠলে প্রতারক ওই তিন নারীদের একজন চায়না রানীকে জড়িয়ে ধরে এবং কৌশলে গলায় থাকা সোনার চেইন খুলে নেয়। বিষয়টি চায়না রানী আঁচ করতে পেরে পাশে থাকা মেয়ে জামাই মন্টু কুমার কুন্ডুকে জানায়। তখন স্থানীয় ভক্তদের সহযোগিতায় ওই তিন প্রতারক নারীকে চিহ্নিত করে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে নারী পুলিশের সহায়তায় প্রতারকদের একজনের কাছ থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইনটি উদ্ধার করে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, তারা পরিকল্পিতভাবে শাখা-সিঁদুর পরে কীর্তন অনুষ্ঠানে এসে গলায় সোনার চেইন আছে এমন হিন্দু নারীদের টার্গেট করে পাশে বসে। অতঃপর কীর্তন চলাকালে সাধারণ ভক্তদের মতো তারাও তাদের টার্গেট করা আগত হিন্দু নারীদের জড়িয়ে ধরে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ বলে কান্নাকাটি করতে থাকে। ততক্ষণে প্রতারকরা কৌশলে সোনার চেইন খুলে নেয়। এরা সংঘবদ্ধ ও আন্তঃজেলা নারী প্রতারক। তাদের সঙ্গে আরো কারা জড়িত আছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
আটককৃত ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন: