প্রকাশিত:
২০ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:২৭
ভারতের গুজরাট রাজ্যে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে বোরকা পরা ছাত্রীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দেখানোকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাবনগর জেলার ওই স্কুলে গত ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি নাটক উপস্থাপন করেছিল শিক্ষার্থীরা।
সেখানে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বোরকা পরা ছাত্রীদের দেখানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নাটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় বিতর্ক।
অনুষ্ঠানের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেখানে খেলনা বন্দুক হাতে কালো রঙের বোরকা পরা কয়েকজন ছাত্রীকে অন্য ছাত্রীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিনয় করতে দেখা যায়। পাঁচ মিনিট দুই সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, পটভূমিতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশাত্মবোধক গান বাজতে শোনা যায়।
বিবিসির গুজরাটির সহযোগী সাংবাদিক অল্পেশ দাভি জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওকে ঘিরে নতুনভাবে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন নেতা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিতর্কের কারণ ভাবনগর শহরের কুম্ভরওয়াড়া এলাকার যে স্কুলে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে সাদা পোশাক ও গেরুয়া ওড়না পরা ছাত্রীদের ওপর ‘সন্ত্রাসী’ সাজা ছাত্রীদের হামলা চালাতে দেখা যায়। যে ছাত্রীরা ওই নাটকে ‘সন্ত্রাসী’ সেজেছিল, তারা বোরকা পরে ছিল বলে অভিযোগ।
স্কুলের ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকে আপত্তি প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও করেছেন তারা। মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা জহুরভাই জেজা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কুম্ভরওয়াড়া এলাকায় পৌরসভা একটি স্কুল চালায়। সেখানে একটি নাটক উপস্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে পর্যটক ও সেনাবাহিনীকে দেখানো হয়। ওই নাটকে মেয়েদের বোরকা পরিয়ে, সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করিয়ে মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানো হয়েছিল।’
ঘটনার জন্য স্কুলের প্রিন্সিপাল ও অন্য শিক্ষকদের দায়ী করেছেন তিনি। তার কথায়, ‘নিষ্পাপ শিশুদের দিয়ে এসব করে এরা দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করেছে। মুসলমানদের বদনাম করার জন্য যেভাবে বোরকার ব্যবহার করা হয়েছে, আমরা তার বিরোধিতা করছি। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
প্রিন্সিপাল কী বলেছেন?
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল রাজেন্দ্র কুমার দাভে। তিনি বলেছেন, ‘এটি বালিকা বিদ্যালয়। আমরা প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস পালন করি। এবার অপারেশন সিঁদুর শীর্ষক নাটক উপস্থাপন করা হয়েছিল। বাচ্চাদের পোশাকে যদি কোনো ভুল-ভ্রান্তি থেকে থাকে এবং তা নিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের যদি কোনো রকম আপত্তি থাকে, তাহলে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’
‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য সম্পর্কে শিশু ও অভিভাবকদের অবহিত করা, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।’
শিক্ষা কর্মকর্তারা কী বলছেন?
ভাবনগর প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির শিক্ষা কর্মকর্তা মুঞ্জল বডমিয়া বিবিসির গুজরাটির সহযোগী সংবাদদাতা অল্পেশ দাভিকে বলেছেন, ‘১৫ আগস্ট শহরের প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির স্কুলগুলোতে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। সেখানে বাচ্চারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেছিল।’
ওই ঘটনার বিষয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। স্কুলের প্রিন্সিপালকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন: