প্রকাশিত:
১৭ আগষ্ট ২০২৫, ১৭:৫৯
স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার ও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) অনিয়ম ও দালালচক্র দূরীকরণের দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৭ আগস্ট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল টাউন হলের সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। সেখান থেকে একটি মিছিল শেবাচিম হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশ হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা ফটকের সামনেই অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
বিকেল ৩টার দিকে উত্তেজনা চরমে ওঠে, যখন হাসপাতালের ভেতর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে উল্টো স্লোগান দিতে শুরু করে এবং শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবস্থার অবনতি হলে আন্দোলনকারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। এতে তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ হল— শেবাচিম হাসপাতালের দালাল ও সিন্ডিকেট স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ, হামলাকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিচার, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহার ও হাসপাতালের সার্বিক সংস্কার বাস্তবায়ন।
আন্দোলনের সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন রনি অভিযোগ করেন, হামলায় হাসপাতালের কর্মকর্তা, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও বাইরের লোকজন জড়িত। তিনি জানান, আন্দোলন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে আন্দোলনকারীদের প্রায় ১০ জন আহত হয়। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন রনি রবিবার বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
ঘোষণা অনুযায়ী আজ সকাল ১১টায় বরিশাল টাউন হলের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন: