প্রকাশিত:
১২ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:২৩
চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে দেশের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলার আর সেবা থেকে ৮.৫ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে সরকার আশা করছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। সচিবালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সচিব মাহবুবর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ১৬.৫ শতাংশ বেশি।
তিনি বলেন, পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাকের ওভেন খাত থেকে ২০.৭৯ বিলিয়ন ডলার ও নিট পোশাক থেকে ২৩.৭০ বিলিয়ন ডলার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার, পাট ও পাটপণ্য থেকে ৯০০ মিলিয়ন ডলার এবং কৃষিপণ্য থেকে ১.২১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে সেবা খাত থেকে রপ্তানি আয় আরও বেশি হবে।
তিনি আরো বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হয়েছে। মাহবুবুর রহমান জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে রপ্তানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রধানদের সঙ্গে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কী কী বাধা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রত্যেক খাতের এক বা দুটি বাধা চিহ্নিত করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেক কনজারভেটিভলিই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি রপ্তানি আরো বেশি হবে।
অপ্রচলিত পণ্যের বাজার তৈরি করা এবং নতুন বাজারে রপ্তানি করার ব্যাপারে আমাদের উদ্যোগ রয়েছে।’
তিনি বলেন এই মুহূর্তে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে যে কোনো কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুকূল না-ও হতে পারে। আমাদের যে শুল্কমুক্ত মার্কেট অ্যাকসেস রয়েছে, আমরা সেটি পুরোপুরি ব্যবহার করতে চাই—বিশেষত যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মো. হাতেম বলেন, ‘সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।
আমাদের প্রত্যাশা, এর থেকে বেশি আমরা রপ্তানি করতে পারব। এটা অর্জন হবে এই কারণে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পাল্টা শুল্ক) নিয়ে যে অর্জন, তার কারণে এটা অর্জন সম্ভব।’
মন্তব্য করুন: