শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরবে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৯ আগষ্ট ২০২৫, ১৫:০৩

লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরবে বলে মনে করছেন লেখক ও গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, নতুবা এভাবে আবাসিক হল কেন্দ্রিক রাজনীতি বন্ধ করে কোনো কাজ হবে না, এই সুযোগে ফায়েদা নিবে অন্যরা। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে, আপনারা নিজেদের শিক্ষার ঠিক কোন পরিবেশ চান, আগামী প্রজন্মের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেমন ‘শিক্ষা ব্যবস্থা চান।

শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘শিক্ষার্থীরা কেবল হলের রাজনীতি নিষিদ্ধ চায় কেন?’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে দেখলাম মধ্যে রাতে আন্দোলন করতে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসিক হলে কোন ‘ছাত্ররাজনীতি’ থাকবে না।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের হল কমিটি দেয়া্র পরই শিক্ষার্থীরা কেন আবাসিক হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে, তবে তারা যদি সত্যি সত্যি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভালো চায়, সত্যি সত্যি আবাসিক হলগুলোর ভালো চাইতো, তাহলে গত বছর তারা যে ৯ দফা দাবি দিয়েছিল, যেখানে ‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি’ বন্ধের দাবি তুলেছিল সেটির বাস্তবায়ন চাইত।

কিন্তু কেন তারা চাইতে পারেনি? ছাত্র সংগঠনগুলো যখন দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বসছে, রাজনীতি রাখার বিষয়ে কথা বলছে, তখন তারা কেন প্রতিবাদ করতে পারে না?

তিনি আরো লেখেন, দেখুন আপনি যখন সেলেক্টেভ ওয়েতে প্রতিবাদ করবেন, তখন সেটা কখনোই সর্বজনীন হয়ে উঠে না। আবাসিক হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে কি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজনীতি আপনি বন্ধ করতে পারবেন? যে ছেলেগুলো হলে থাকে, তারা কাল ক্যাম্পাসে গিয়ে মিছিল করবে, মারামারি করবে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। তখন আপনি কি বলবেন, আমরা তো আবাসিক হলের রাজনীতি বন্ধ করেছি, এখন যদি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না হয় তাহলে আমরা আর কি করতে পারি?

নাদিম মাহমুদ আরো লেখেন, যারা কেবল আবাসিক হলের রাজনীতি বন্ধ চান, তারা মূলত চাচ্ছে, আবাসিক হলগুলোতে কোন কমিটি থাকবে না। আর কমিটি না থাকলে আবাসিক হলগুলো রাজনীতি মুক্ত হয়ে যাবে।

বিষয়টি এইভাবে যদি তারা দেখে, তাহলে বলব এই রোগ সাড়বে না। কারণ, ছাত্ররাজনীতি গত ত্রিশ বছর না করতে পেরেও একটি রাজনৈতিকদল প্রতি বছর তাদের সংগঠনের কমিটি দিয়েছে, হল কমিটিও চুপিসারে হয়েছে।

এখন এমন রাজনৈতিক দল যদি গোপনে গোপনে কমিটি দেয়, তাহলে আপনি আটকাবেন কী করে? বরং তারা যদি সত্যি সত্যি বিশেষ কোনো রাজনীতি দলের সমর্থক না হয়ে থাকে, তারা যদি সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার পরিবেশ চায়, তাহলে অবশ্যই দাবি তোলা উচিত ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন তো হচ্ছে, সেখানেই নেতৃত্ব তৈরি হোক, নতুন করে রাজনৈতিকদলের স্টুডেন্ট উইং কেন প্রয়োজন? তারা দাবি তুলতে পারত, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা সবার রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকুক। সেই সাহসটুকু তারা দেখাতে পারেনি।

ফেসবুক পোস্টে এই গবেষক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলে আসছি, কয়েক দফা পত্র-পত্রিকায় টানা লিখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সত্যি যদি আন্তজার্তিক মানের করার প্রয়োজন অনুভব করেন, তাহলে আপনাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকল ধরনের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

সেটা হোক ছাত্র, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী।  তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজনীতি ও দেশ সচেতন করার জন্য, নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য নানা ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড করার সুযোগ আছে। ছাত্র সংসদ সচল করে সেই চাহিদা পূরণ করা যাবে। কিন্তু সেই দিকে না হেটে এই ছাত্র সংসদকে আবার রাজনৈতিক দলগুলোর প্যানেল তৈরি করে ‘দলীয়’ রাজনীতির মোড়কায়ন করা হচ্ছে, যা থেকে ‘লেজুড়বৃত্তি’ দূর করা সম্ভব নয়। এমনকি পক্ষপাতমূলক কিংবা দলীয় সমর্থকদের প্রতি অনুরাগী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা কখনোই সুখকর হতে পারে না।

তাই যারা আবাসিক হলের রাজনীতি বন্ধ করার দাবি তুলছেন, দয়া করে ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে ভাবুন। এটার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবুন। আপনারা যে দাবি তুলছেন, কমিটিতে থাকা নামগুলো আবাসিকতা বাতিল করতে, ঠিক একই দাবি তুলুন, যদি কারো ছাত্র রাজনীতি করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাকে একাডেমিক শাস্তি প্রদান করা হবে।

বুয়েট এই কাজটি করছে গত কয়েক বছর ধরে। তাদের অভিজ্ঞতা জানুন, নিজেদের ক্যাম্পাসে দাবি তুলুন। লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা গেলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরবে, নতুবা এইভাবে আবাসিক হল কেন্দ্রিক রাজনীতি বন্ধ করে, কোনো কাজ হবে না, এই সুযোগে ফায়েদা নিবে অন্যরা। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে, আপনারা নিজেদের শিক্ষার ঠিক কোন পরিবেশ চান, আগামী প্রজন্মের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেমন ‘শিক্ষা ব্যবস্থা চান’।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর