শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

চীন-ভারত থেকে সরছে ক্রেতারা, চট্টগ্রামে বাড়ছে ক্রয়াদেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৪ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:২৮

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কহার তুলনামূলক কম হওয়ায় নতুন আশার আলো দেখছেন চট্টগ্রামের রপ্তানিকারকরা। ইতিমধ্যে চীন ও ভারতের অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখানকার কারখানাগুলোর কাছে অর্ডার দেওয়া শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং তৈরি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের শুল্কহার ভিয়েতনামের সমান হলেও, চীনের তুলনায় ২০ শতাংশ এবং ভারতের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। ফলে চীনা ও ভারতীয় অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ২৫০টির বেশি কারখানা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে থাকে এবং রপ্তানিকৃত মোট গার্মেন্টস পণ্যের প্রায় অর্ধেকই আসে এই অঞ্চল থেকে।

রপ্তানিকারকরা জানান, চীনা ক্রেতারা FOC বা ‘ফ্রি অফ কস্ট’ ভিত্তিতে অর্ডার দিচ্ছে, যেখানে তারা নিজেরাই কাপড়, অ্যাকসেসরিজ পাঠায় এবং বাংলাদেশি কারখানাগুলো শুধু সেলাই করে রপ্তানি করে। তবে এই প্রক্রিয়ায় এখনও রয়েছে এনবিআরের বন্ড সুবিধা ও অন্যান্য নীতিগত জটিলতা। ব্যবসায়ীদের মতে, যদি সরকার এ ধরনের অর্ডারের ক্ষেত্রে সহজীকরণ করে এবং সম্পূর্ণভাবে করমুক্ত সুবিধা দেয়, তাহলে রপ্তানির পরিমাণ ও আয় দুই-ই বাড়বে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে অর্ডার গ্রহণ থেকে রপ্তানির তদারকি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচুর بيرোক্রেটিক জটিলতা রয়েছে। এক্সপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই আরও বেশি ক্রেতা আকৃষ্ট করা সম্ভব। এছাড়া নতুন প্রযুক্তি, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন স্বল্প সুদে ঋণ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও ভারতের অর্ডার যদি বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়, তবে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সমৃদ্ধ হবে। এ ছাড়া উচ্চ মূল্যের ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন নতুন পণ্যে বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

চট্টগ্রামের পোশাক খাত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি সম্ভাবনার মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক সুবিধা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ যদি সরকার সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শুধু সম্ভবই নয়, সময়ের আগেই তা বাস্তবে পরিণত হতে পারে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর