প্রকাশিত:
৩১ জুলাই ২০২৫, ১৭:৩৩
অর্থপাচারের অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল থানার মামলায় অটাম লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াসিউর রহমানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ৩১ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. ছায়েদুর রহমান তার তিন দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং বিদেশে অর্জিত সম্পত্তির তথ্য উদঘাটনের জন্য নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর প্রয়োজন।
মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। এ সময় আসামিপক্ষে রিমান্ড ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে বুধবার রাজধানীর মধ্যবাড্ডা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, অটাম লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কম্পানি (বেক্সিমকো) কর্তৃক জনতা ব্যাংক পিএলসির অনুকুলে করপোরেট গ্যারান্টি প্রদান করা হয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপের কর্পোরেট গ্যারান্টেড প্রতিষ্ঠান অটাম লুপ অ্যাপারেলস ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে জনতা ব্যাংক থেকে তিনটি এলসিং সেলস কন্ট্রাক্ট (বিক্রয় চুক্তি) গ্রহণ করেন।
এর বিপরীতে পণ্য রপ্তানি করে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসিত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি করার রপ্তানিমূল্য চার মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে ওয়াসিউর রহমান তার অটাম লুপ এপারেলস লিমিটেডসহ অন্যান্য আসামিদের সহযোগীতায় সংঘবদ্ধভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পণ্য রপ্তানি করেন।
এর মাধ্যমে ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২৮ ইউএস ডলার রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসন না করে দেশের বাইরে নিজেদের ভোগ বিলাস এবং সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ২(শ) এর (১৪), (১৬) ধারার সম্পৃক্ত অপরাধ করেছেন৷ যা একই আইনের ৪(২)/৪(৪) ধারা মোতাবেক দন্ডনীয়য় অপরাধ।
মন্তব্য করুন: