প্রকাশিত:
৩০ জুলাই ২০২৫, ১৬:১১
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় স্কুলছাত্র সুমেল হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১৭ জনের ২ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় মোট ৩২ জন আসামির মধ্যে একজন পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক (১ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক) সৈয়দা আমিনা ফারহিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের এপিপি কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনিবলেন, ‘আদালত রায়ে ৬ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন ও ১৭ জনের ২ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। কেবল ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মামুনুর রশিদ পলাতক রয়েছেন।’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— বিশ্বানাথ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে সাইফুল আলম (৪৪), তার সহোদর নজরুল আলম (৪১), ছদরুল ওরফে সদর আলম (৪৩), একই উপজেলার চৈতন্যনগর গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সিরাজ উদ্দিন (৪৭), ভাটিপাড়ার মৃত ফিরোজ আলীর ছেলে জামাল মিয়া (৪৯), নয়াগাওয়ের শফিক আলীর ছেলে শাহিন উদ্দিন (৪২), গাঙ্ঘুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল জলিল (৪৯) এবং পশ্চিম ঘরগাড়িকান্দি গ্রামের মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার চৈতন্যনগর গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লার ছেলে ইলিয়াছ আলী (৫৬), তার সহোদর আব্দুন নুর (৫১) ও জয়নাল আবেদীন (৪১), একই গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে আশিক উদ্দিন (৫০), মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে আছকির আলী (৪৯), ওই গ্রামের ইছকন্দর আলীর ছেলে অলিদ মিয়া ওরফে ফরিদ (৪৬), একই গ্রামের মৃত নুর মিয়া আকবর মিয়া (৪৪)। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ের আরো ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
২ বছরের দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- লুৎফুর, ময়ূর, মানুনুর রশিদ (পলাতক), কাওছার, দিলাফর, পারভেজ, ওয়াহিদ, দিলোয়ার, আজাদ, মুক্তার, রকিব, আঙ্গুর, জাবেদ, শফিক, মখলিছ, ফিরোজ ও ফখর উদ্দিন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ মে বিশ্বনাথের চৈতননগর গ্রামের নজির উদ্দিনের ক্ষেতের জমি থেকে জোর করে রাস্তায় মাটি তুলতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম।
এসময় তাকে বাঁধা দেন নজির উদ্দিন, চাচাতো ভাই মানিক মিয়া ও ভাতিজা শাহজালাল হাইস্কুলের ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্র সুমেল মিয়া (১৮)। এতে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাইফুল আলমের বন্দুকের গুলিতে ওইদিন সুমেল মিয়া নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন সুমেলের বাবা ও চাচাসহ ৪ জন।
এ ঘটনায় নিহত সুমেলের চাচা বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিশ্বনাথ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত কর্মকর্তা রমা প্রসাদ চক্রবর্তী চাঞ্চল্যকর এ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন।
মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে দায়রা ৬০৬/২০২২ মূলে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়। গত ১৩ জুলাই মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয় এবং আদালত বুধবার (৩০ জুলাই) এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে ওই দিন আদালত ৩০ জন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় ৩২ জন আসামির মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুর রশীদ পলাতক রয়েছেন। এছাড়া প্রধান আসামি সাইফুল আটকের পর থেকে প্রায় পৌনে ৪ বছর ধরে কারাগারে আছেন। প্রায় চার বছর পর বুধবার (৩০ জুলাই) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
মন্তব্য করুন: