শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

৬ বিলিয়ন পাউন্ডের ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৪ জুলাই ২০২৫, ১৭:৪১

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এক ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। যার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে যুক্তরাজ্যের গাড়ি ও হুইস্কি ভারতে কম শুল্কে রপ্তানি করা যাবে, একইভাবে ভারতের পোশাক, গয়না ও রত্নপাথর যুক্তরাজ্যে আরো সাশ্রয়ে পৌঁছাতে পারবে। এই চুক্তি তিন বছর ধরে চলা কঠিন আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফল।

২০২২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সময়ে আলোচনার সূচনা হয়। এ বছরের মে মাসে চুক্তির মূল কাঠামোতে সম্মতি আসে এবং সম্প্রতি ভারতের মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন দেয়, যদিও ভারতের সংসদে এটি এখনো অনুমোদিত হয়নি। চূড়ান্ত বাস্তবায়নে আরো প্রায় এক বছর সময় লাগবে বলে ধারণা।

চুক্তির আওতায় যেসব পণ্যে শুল্ক হ্রাস পাবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—পোশাক ও জুতা, খাদ্যদ্রব্য (যেমন হিমায়িত চিংড়ি), গয়না ও রত্ন, গাড়ি, উচ্চমূল্যের গাড়ি, হুইস্কি, জিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কসমেটিকস, চকোলেট ও বিস্কুট।

বিশেষ করে হুইস্কির ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে অর্ধেকে (৭৫ শতাংশ) নামিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৪০শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে বছরে ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে যুক্ত হবে এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মূলত প্রযুক্তি, অ্যারোস্পেস, অগ্রসর উৎপাদন শিল্প এবং সাপ্লাই চেইন খাতের কর্মীরা এর সুবিধা পাবেন।

চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অবৈধ অভিবাসন রোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পরিকল্পনা। দুই দেশ এখন থেকে অপরাধমূলক রেকর্ড শেয়ার করবে, যা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া, নজরদারির তালিকা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সাহায্য করবে।

চুক্তিতে উভয় দেশ তাদের কোনো কর্মী যদি অস্থায়ীভাবে অন্য দেশে কাজ করেন, তাহলে তাকে কেবল নিজ দেশের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ভারত এই ব্যবস্থাকে ‘অভূতপূর্ব অর্জন’ বলে উল্লেখ করেছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এই চুক্তি ভারতীয় শ্রমিকের কারণে ব্রিটিশ শ্রমিকদের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস এই দাবি ‘সম্পূর্ণ ভুল’ দাবি করে বলেন, ভারতীয় কর্মী নিয়োগে আলাদা করে কোনো কর সুবিধা নেই। বরং ভিসা ও এনএইচএস সারচার্জের কারণে খরচ আরো বেশি হয়।

চুক্তির আওতায় শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। এক বছর আগে যুক্তরাজ্য ও ভারতের মধ্যে ‘টেকনোলজি সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা যৌথভাবে টেলিকম নিরাপত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে কাজ করার পথ উন্মুক্ত করেছে। যদিও এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে ব্রিটেন এখনও ভারতের আর্থিক ও আইনগত খাতে যেটুকু প্রবেশাধিকার চেয়েছিল, তা পুরোপুরি পায়নি। পাশাপাশি, ব্রিটেনের ‘উচ্চ-কার্বন শিল্পে কর’ আরোপের পরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে। যেটি ভারতের রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে।

এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাজ্যে চতুর্থ সফর। এই সফর দুই দেশের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই চুক্তি এখন বাস্তবায়নের পথে। দুই দেশের জন্যই একটি ঐতিহাসিক দিন।’


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর