প্রকাশিত:
২১ জুলাই ২০২৫, ১৮:১৪
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে আদালতের নির্দেশে গোপালগঞ্জ পৌর কবরস্থান থেকে দুজনের এবং টুঙ্গিপাড়া থেকে একজনের লাশ উত্তোলন করা হয়।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান জানান, মামলার বাদীরা নিহতদের গত রবিবার আদালতে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলনের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক রোমানা রোজী নিহত রমজান কাজী, ইমন তালুকদার এবং সোহেল রানার লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
পরে আজ সোমবার দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি ও রন্টি পোদ্দারের উপস্থিতিতে রমজান কাজী ও ইমন তালুকদারের লাশ শহরের গেটপাড়া পৌর কবরস্থান থেকে এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মারুফ দস্তগীরের উপস্থিতিতে সোহেল রানা মোল্লার লাশ উত্তোলন করে। পরে লাশ তিনটি গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, নিহত দীপ্ত সাহার মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসারে মানিকদাহ পৌর শ্মশানে সৎকার করা হয়েছে। নিহত রমজান মুন্সীর লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে, গোপালগঞ্জে সহিংস ঘটনার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারফিউ ও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়ার পর জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে গ্রেপ্তার আতঙ্ক রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেক যুবক ও প্রবীণ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
সোমবার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওষুধের দোকান, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে। তবে এখনো অনেক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের ভয়ে দোকান খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলেও শহরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস খুলেছে কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় শহরের বড়বাজার পৌর মার্কেটে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা বা থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে তার জন্য গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। আগামীতে যে কোনো নিবন্ধিত বৈধ রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ও মিটিং-মিছিলে যাতে কোনো অপশক্তি কোনো ধরনের আক্রমণ বা বাধার সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য জেলা প্রশাসকসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন সমাবেশ শুরুর আগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির সমাবেশ পণ্ড করার জন্য সকাল থেকে গোপালগঞ্জ শহরে আসার সব সড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে। সেই সঙ্গে কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের মারপিট, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জনমনে ভীতির সৃষ্টি করে। এ ছাড়া সরকারি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর করে এবং গোপালগঞ্জ জেলা সদরে থাকা বিএনপি নেতাদের বেশ কয়েকটি তোরণ ভাঙচুর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের, বিএনপি নেতা ডা. কেএম বাবর, অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন: