বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

অতিরিক্ত রিলস দেখা যেভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২১ জুলাই ২০২৫, ১৭:৫১

আপনার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে—তাও আপনি বুঝতেই পারছেন না। আশ্চর্যের বিষয়, এর পেছনে কোনো ভাইরাস বা বাহ্যিক সংক্রমণ নয়, দায়ী আপনারই একটা অভ্যাস, অতিরিক্ত রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখা।

রিলস দেখা কেন ক্ষতিকর?

প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রিল বা শর্টস দেখার ফলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত ডোপামিন ক্ষরণ হয়। এই রাসায়নিক এক ধরনের স্বল্পমেয়াদি আনন্দ তৈরি করে, যা এক সময় মস্তিষ্ককে তার স্বাভাবিক ছন্দ থেকে সরিয়ে দেয়।

এর ফলে মনোযোগ কমে, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে এবং ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদ তৈরি হয়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই বলেন, মনে হচ্ছে কিছুতেই মন বসছে না। কিছু ভালো লাগছে না, ক্লান্ত লাগছে। এইসব আসলে অলসতার ফল নয়, বরং নিউরোলজিক্যাল ওভার-স্টিমুলেশন বা অতিরিক্ত উদ্দীপনার লক্ষণ।

গভীর কিছুতে মন বসছে না কেন?

রিলস বা শর্টস যেহেতু মাত্র ১৫-৩০ সেকেন্ডের হয়, মস্তিষ্ক তাতে তাৎক্ষণিক আনন্দ পায় এবং এমন কনটেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে—বই পড়া কষ্টকর লাগে, আলোচনায় মন বসে না, ধৈর্য ধরে কোনো কাজ করা অসহ্য মনে হয়, প্রকৃত জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনের ইচ্ছা কমে যায়

কী বলছে গবেষণা?

গবেষণা অনুযায়ী, যারা অতিরিক্ত শর্ট ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে: স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা কমে, উদ্বেগ ও অবসাদ বেড়ে যায়, ভেতরে ভেতরে তারা ‘কৃত্রিম উত্তেজনার’ আসক্তিতে ভোগেন, তারা অলস নয়, বরং মন সব সময় নতুন কিছু খোঁজে। যা আসলে আসক্তির একটি রূপ।

এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবেন কীভাবে?
গবেষকদের পরামর্শমতে, দিনে কিছু সময় একদম কিছু না করে চুপ করে বসে থাকুন।

হেডফোন ছাড়া হাঁটুন। মোবাইল ছাড়াই প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান। প্রতিদিন অন্তত কয়েক পৃষ্ঠা বই পড়ার অভ্যাস করুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর মন দিন, ধ্যান করুন। প্রথমদিকে এ অভ্যাসগুলো একঘেয়ে ও অস্বস্তিকর লাগতে পারে।

ঠিক যেমন ধূমপান বা মদ্যপান ছাড়ার পর শরীর খারাপ লাগে। এটিই হলো ডিজিটাল আসক্তির উইথড্রয়াল। কিন্তু এই পর্যায় পেরিয়ে গেলে ফিরে পাবেন মানসিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও ফোকাস। রিলস বা শর্ট ভিডিও সময় কাটানোর একধরনের উপায় হলেও, অতিরিক্ত আসক্তি আপনার মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিতে পারে। সচেতন থাকুন, নিয়ম তৈরি করুন এবং নিজের মন ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর