শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

শুক্রাণুর মাধ্যমে সন্তানের দেহে ছড়ায় যে রোগ!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২০ জুলাই ২০২৫, ১৮:১২

আমাদের মধ্যে অনেকেই মানসিক চাপকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু এই মানসিক চাপ শুধু নিজের ওপরই নয়, প্রভাব ফেলতে পারে আপনার সন্তানের ওপরেও। এটি আচরণ, দেখাদেখি বা শিক্ষা থেকে হয় না, বরং সরাসরি জৈবিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে।

২০১৬ সালে ‘নেচার নিউরোসায়েন্স’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকরা।সেখানে দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে থাকা পুরুষ ইঁদুরের শুক্রাণুর মধ্যে থাকা বিশেষ মলিকিউল বা অণুর মাধ্যমে তাদের সন্তানদের মধ্যেও মানসিক চাপ সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় তাদের ডিএনএ-র গঠনে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

গবেষণা বলছে, মানসিক চাপ জিনের গঠন পাল্টে দেওয়ার পরিবর্তে শুক্রাণুতে থাকা ক্ষুদ্র ‘নন-কোডিং আরএনএ’-এর মাত্রা পরিবর্তন করে দেয়। এই আরএনএ অণুগুলোই নিষিক্ত হওয়ার পর ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।  এর ফলেই সন্তানদের মধ্যে মানসিক চাপের প্রভাব সঞ্চারিত হয়।

কিভাবে এই চাপ সঞ্চারিত হয় আণবিক বার্তাবাহক : মানসিক চাপে থাকা পুরুষ ইঁদুরদের শুক্রাণুতে নির্দিষ্ট নয়টি মাইক্রো-আরএনএ-এর মাত্রা বেশি থাকে। এই অণুগুলো একপ্রকার সংকেত হিসেবে কাজ করে, যা নিষিক্ত হওয়ার পর জিনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।

আচরণগত পরিবর্তন : বিজ্ঞানীরা যখন এই নির্দিষ্ট আরএনএগুলোকে সুস্থ ইঁদুরের ভ্রূণে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করান, তখন দেখা যায়, জন্ম নেওয়া সন্তানদের মানসিক চাপ মোকাবেলার ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে।

তারা চাপের প্রতি অনেক কম সংবেদনশীল ছিল এবং তাদের মধ্যে উদ্বেগজনিত আচরণেও ফারাক রয়েছে।

মস্তিষ্কের বিকাশ : ওই সন্তানদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে জিনের কার্যকারিতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মস্তিষ্কের এই অংশটিই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী। মস্তিষ্কের গঠন ও ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত জিনেও এই পরিবর্তন ধরা পড়ে।

 


প্রাথমিক প্রভাব : শুক্রাণুর মধ্যে থাকা এই পরিবর্তিত আরএনএ নিষিক্ত হওয়ার পরেই দ্রুত কাজ শুরু করে।


এটি মাতৃ-আরএনএ-কে নষ্ট করে দেয় এবং মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ঘটায়।
এই গবেষণা প্রমাণ করে, ডিএনএ-র পরিবর্তন ছাড়াই বাবার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে পারে। মানসিক চাপ শরীরে এক ধরনের ‘জৈবিক ছাপ’ রেখে যায়। এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে উত্তরাধিকার সূত্রে শুধু জিনই মেলে না, শরীর তার নিজের অভিজ্ঞতাও পরবর্তী প্রজন্মে বয়ে নিয়ে চলে।

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর