বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

যে ভাইকে জেল থেকে বের করেছি, সেই আমার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৫ জুলাই ২০২৫, ১৭:৪৮

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা পৌর শহরে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড। নিজের ছোট ভাইকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনেন বড় ভাই, অথচ সেই ছোট ভাই-ই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। এই নৃশংস ঘটনাটি স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকা।

### তিনটি নিথর দেহ, এক ভাইয়ের বিশ্বাসঘাতকতা

সোমবার দুপুরে ভালুকার পনাশাইল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ময়না আক্তার (৩০), মেয়ে রাইসা আক্তার (৭) ও ছেলে নীরব হোসেন (৫)-এর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা সবাই একটি কক্ষের ভেতর খাটের ওপর পড়ে ছিলেন। সবার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি আমার ভাইকে একটি হত্যা মামলায় জেল থেকে বের করতে ৪০ হাজার টাকা ধার করে জামিন করাই। আড়াই মাস হলো সে বাড়িতে। অথচ সে-ই আমার সবকিছু শেষ করে দিলো। আমি এখন কার জন্য বাঁচব?”

তিনি জানান, তার ভাই নজরুল ইসলাম এর আগেও গাজীপুরে একটি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছরের বেশি সময় জেল খেটেছেন।

বাসার মালিক হৃদয় হাসান বলেন, রফিকুল দেড় মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেন এবং তার ভাই নজরুল আলাদা একটি কক্ষে থাকতেন। তারা কখনো ঝগড়া বা বিরোধ করেছেন, এমন কিছু চোখে পড়েনি।

ঘটনার দিন সকালে রফিকুল কাজ থেকে ফিরে এসে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে বাড়িওয়ালাকে নিয়ে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ দেখতে পান। সেই মুহূর্ত থেকেই নজরুল ইসলাম পলাতক।

পুলিশ জানায়, নজরুলের কক্ষ থেকে রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে, যেটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান,
“আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করি। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। আমরা তদন্ত করছি, দ্রুতই মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।”

স্থানীয়রা হতবাক হয়ে বলেন,

“এতো শান্ত স্বভাবের পরিবার ছিল। যে ভাইয়ের মুক্তির জন্য শেষ সম্বল দিয়ে লড়েছিলেন, সেই ভাই-ই তার সমস্ত কিছু কেড়ে নিল। এটা কিভাবে সম্ভব?”

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর