প্রকাশিত:
১৩ জুলাই ২০২৫, ১৭:৫১
শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ফল খাওয়া প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। কারণ ফলে থাকে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, অন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু সমস্যায় কাজে আসে রকমারি ফল। এগুলোতে পর্যাপ্ত ফাইবারও পাওয়া যা। সে জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ফাইবারসমৃদ্ধ ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
সব ফলেই কোনো না কোনো উপকার রয়েছেই। কিন্তু কোন সমস্যায় কোন ফল উপকারী, আবার কখন ফল ক্ষতিকরও হয়ে উঠতে পারে, তা আমরা অনেকেই জানি না। এ বিষয়ে কী বলছেন পুষ্টিবিদরা, জেনে নিন—
কোষ্ঠকাঠিন্য
যেকোনো বয়সীদেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এই সমস্যা দূর করার জন্য ভালো উপায় পাকা পেঁপে। এতে থাকা প্যাপাইন নামক উৎসেচক প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। পেঁপেতে থাকা ফাইবারও পেটফাঁপা কমাতে এবং পেট পরিষ্কারে সাহায্য করে।
অম্বল
অম্বলের সমস্যায় ভুগলে কলা বেছে নিতে পারেন। কলায় এসিডের পরিমাণ কম। এতে থাকা পেকটিনও এক ধরনের ফাইবার। পাকস্থলির গায়ে এই ফাইবার হালকা পরত ফেলে দেয়। ফলে অম্বলের জন্য হওয়া জ্বালা ভাব কমে। পাকস্থলির পিএইচ মাত্রা বা অম্ল-ক্ষারের মাত্রা ঠিক রাখতেও সাহায্য করে এই ফল।
তবে পুষ্টিবিদ বলছেন, কলা পাকা হতে হবে। আধ কাঁচা বা কাঁচা কলা কিন্তু কখনো কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের শরীরের ওপরে।
পেটফাঁপা
খাওয়ার পরে অনেকেরই পেটে ফোলা ফোলা লাগে, অস্বস্তি হয়। বিশেষত খুব বেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে বা অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে গেলে এমন সমস্যা হয়। খাওয়ার কিছু সময় পরে আনারস খেলে এমন সমস্যার সমাধান হতে পারে। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন। প্রোটিন পরিপাকে এই উৎসেচক অত্যন্ত কার্যকর। এতে রয়েছে প্রদাননাশক উপাদান। ফলে পেটে যে অস্বস্তি হয়, তা কমতে পারে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ ফল
পেয়ারায় শুধু ফাইবার নয়, অন্যান্য ফলের চেয়ে বেশি প্রোটিনও পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ২.৫-৩ গ্রাম প্রোটিন মেলে। এ ছাড়া ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পেয়ারায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
যেসব ফল ক্ষতিকর হতে পারে
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ উপকারী মুসাম্বি লেবু ক্ষেত্রবিশেষে সমস্যার কারণ হতে পারে। লেবুতে এসিডের মাত্রা বেশি। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, যাদের অম্বলের সমস্যা আছে তাদের খালিপেটে পাতিলেবুর পানি না খাওয়া ভালো। লেবু খেলে যদি সমস্যা হয়, সেটা এড়িয়ে যাওয়া দরকার।
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, পেঁপে বা আনারসের মতো এই ফলে হজমে সহায়ক উৎসেচক মেলে না। উল্টো খাওয়ার পরে মুসাম্বি লেবু খেলে অম্বলের সমস্যা হতে পারে। বিশেষত পরিমাণে বেশি খেলে। যদিও কোনো কোনো পুষ্টিবিদ বলেন, মুসাম্বি লেবুর রস পানি মিশিয়ে পাতলা করে খেলে এমন সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।
মন্তব্য করুন: