প্রকাশিত:
১০ জুলাই ২০২৫, ১৪:২২
ফ্লাইওভার থেকে টঙ্গীতে নামার সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত মাহফুজুর রহমান (২১) বরিশাল সরকারি হাতেম আলী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে টঙ্গীতে আসার সময় তিনি নিহত হন। পুলিশ বলছে, ছিনতাইকারীর আঘাতে না অন্য কোনো কারণে হত্যা তা এখনো জানা যায়নি।
বুধবার (৯ জুলাই) রাত ১২টার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভার থেকে টঙ্গীর সেনা কল্যাণ ভবনগামী সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহফুজুর রহমান (২১) বরিশাল সদর উপজেলার হায়াতসার গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ব্লু ফ্যাশন লিমিটেডে একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের বোনজামাই জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, মাহফুজ বরিশাল সৈয়দ হাতেম আলী সরকারি কলেজের অর্থনীতির শিক্ষার্থী। সে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাড়িতে যায়।
পরীক্ষা শেষে টঙ্গীতে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে টঙ্গী পাগাড় এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করত।
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিহতের সঙ্গে থাকা কলেজের রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়া গেছে। এই কার্ডের তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে নিহত মাহফুজ নিয়মিত ছাত্র ও গার্মেন্টস শ্রমিক।
এর আগে, গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভার থেকে সেনা কল্যাণ ভবনগামী সংযোগ রাস্তার মাঝামাঝি পৌঁছানো মাত্র দুষ্কৃতিকারীরা মাহফুজুর রহমানকে আক্রমণ করে। এসময় তার ডান পায়ের উরুর পেছনে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুষ্কৃতিকারীরা। ঘটনার সময় ডিএমপির ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় সিএনজিতে তুলে দিলে সিএনজি ড্রাইভার তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভিকটিম মাহফুজুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসকান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালের মর্গে পাঠানোসহ যাবতীয় আইনত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর বিআরটি ফ্লাইওভারে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। শুধু রাতের বেলা নয়, দিনে দুপুরেও ফ্লাইওভারটিতে ছিনতাই হচ্ছে অহরহ। পুরোপুরি কাজ শেষ না করেই খুলে দেওয়া অরক্ষিত ফ্লাইওভারটির অধিকাংশ স্থানে নেই সড়কবাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা পুলিশ বক্স।
ফলে পথচারী কিংবা বাসযাত্রীরা ফ্লাইওভারে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। আগেও ফ্লাইওভারটিতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে একাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন: