বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

অবিরাম বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৯ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৭

টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জেলার অপেক্ষাকৃত নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফেনীতে মঙ্গলবার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বর্ষণ ও উজানের পানিতে ফেনীর মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শহরের বহুতল ভবনের বাসায় দুর্ঘটনা এড়াতে বেশকিছু সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

বিরামহীন ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের ৯টি উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। ভোলায় বৈরি আবহাওয়ার কারণে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে ১০ নৌ রুটে লঞ্চ ও সি ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন. এ অবস্থা চলতে পারে আরও দুদিন। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।

ফেনীতে ২৪ ঘণ্টায় ২৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত হিসাব করা হয়। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শহর ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে শহরের সদর হাসপাতাল রোড, একাডেমি রোড, রামপুর, শাহীন একাডেমী এলাকা, পাঠানবাড়ি এলাকা, নাজির রোড, পেট্রোবাংলো, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতার। টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। শহরের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে থাকায় দোকানপাটের মালামালসহ ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পৌর সুলতান মাহমুদ হকার্স মার্কেটে পানি থাকায় দোকানের মালামালসহ সব কিছু পানির নিচে তলিয়ে যায়।

এ দিকে সীমান্তবর্তী নদী মুহুরী, সিলোনীয়া নদীর পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফেনী পৌর প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, বৃষ্টির গতির সঙ্গে ড্রেনেজে পানি সরার সক্ষমতা না থাকায় শহরে জলাবদ্ধতা হয়েছে। তবে, বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে পানি নেমে যাবে।

শহরের অনেক বহুতল ভবনের বাসার দুর্ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। সন্ধ্যায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরববাহ চালু করা হয়। গত বছরের বন্যায় বেজমেন্টে সাব স্টেশনের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রায় সাতদিন ফেনী শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

কক্সবাজার ॥ অব্যাহত ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের ৯টি উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। এর মধ্যে টেকনাফে ৫০টি, উখিয়ায় ২০টি ও ঈদগাঁও উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ ছাড়াও কম বেশি প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়ার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঘণ্টায় জেলায় ২২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও তিনদিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ দিকে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় টেকনাফ-উখিয়া ও ৯টি উপজেলাসহ পৌরসভার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও। তবে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, তার ইউনিয়নের পূর্ব রঙিখালী এলাকায় টানা বর্ষণে প্রায় ৩শটি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। মূলত খাল দখলের কারণে বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় তাদের বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আনোয়ারী বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আমার ইউনিয়নের অনেক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বৃষ্টি যত বাড়ছে ততই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুকনো খাবার দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা প্রশাসক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ভারি বৃষ্টিতে জেলার নি¤œাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। আমরা জরুরি সহায়তা দিচ্ছি।

ভোলা ॥ মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এ দিকে, টানা বৃষ্টিতে ভোলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন বিপাকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এতে করে অটোরিক্সা চালকদের আয় কমে গেছে। শহরের লোকজন কম থাকায় মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা বিক্রি কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন। অন্য দিকে, টানা বৃষ্টির কারণে ছাতা বিক্রি বেড়ে গেছে।

সাগর উত্তাল থাকায় মঙ্গলবারও সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি ছিল। এতে করে মঙ্গলবারসহ টানা পাঁচদিন ধরে ভোলা জেলার ইলিশ থেকে লক্ষ্মীপুর, মনপুরা-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ ১০টি নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সি ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। লঞ্চ ও সি ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তবে, ভোলা-ইলিশা রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ রুটে লঞ্চ ও সি ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের পারাপার করেছেন।

ভোলা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত রয়েছে। সোমবারের চেয়ে মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। ভোলা জেলায় সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। টানা পাঁচদিনে মোট ১৩৭.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি জানান, আরও দুদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদী বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সমুদ্র উত্তাল থাকায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে মঙ্গলবারও ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি ছিল। তাই, মঙ্গলবার টানা পঞ্চম দিনের মতো ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর, দৌলতখান-আলেকজান্ডার, তজুমদ্দিন-মনপুরা, মনপুরা-ঢাকা, হাতিয়া-ঢাকা, চরফ্যাশন-ঢাকা রুটসহ অভ্যন্তরীণ ১০টি রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই রুটগুলোতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

এ দিকে, দুপুরে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হরীবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা কামারুজ্জামান বলেন, সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছি। জলাবদ্ধতায় শহরের অধিকাংশ এলাকায় পানিতে ডুবে গেছে।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন সিকদার বলেন, অতি বৃষ্টিতে আমার ঘরের সামনেও হাঁটু পরিমাণ পানি উঠেছে। পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামুন ও গৃহবধূ নাজমুন নাহার বলেন, অবিরাম বৃষ্টির পানিতে এ ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, চরফ্যাশন পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর