প্রকাশিত:
৮ জুলাই ২০২৫, ১৮:১২
নেপালে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। হিমালয় ঘেঁষা একটি উপত্যকাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে ১৮ জন মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া ধ্বংস করে দিয়েছে চীনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
রাসুয়া জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা অর্জুন পৌডেল জানান, ভোটেকোশি নদীতে এই বন্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে হঠাৎ ধেয়ে আসা পানির প্রবল স্রোত শুধু জনবসতিই নয়, নেপাল ও চীনের মধ্যে অন্যতম একটি প্রধান সেতুকেও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১১ জন নেপালি নাগরিক এবং ৬ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন। বর্ষাকালে দুর্যোগ স্বাভাবিক হলেও জলবায়ু পরিবর্তনে এর তীব্রতা বেড়েছে।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধস স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ালেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব দুর্যোগ আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউ) গত বছর সতর্ক করে জানিয়েছিল, ক্রমবর্ধমান বন্যা ও খরার ঘটনাগুলো আসন্ন বিপদের এক ভয়াবহ বার্তা।
কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা (আইসিআইএমওডি) গত জুন মাসেই সতর্ক করেছিল। এই বর্ষা মৌসুমে হিমালয় অঞ্চলের জনগণ আরো বড় ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে পারে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত পানির কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ যেমন বন্যা, ভূমিধস ও ধ্বংসাত্মক স্রোতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।’
নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকর্মীদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে অভিযান ব্যাহত হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে সব ধরনের চেষ্টাই চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এই দুর্যোগে চীনের সঙ্গে সংযোগকারী যে সেতুটি ধ্বংস হয়েছে, তা সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন: