প্রকাশিত:
২ জুলাই ২০২৫, ১২:৩৪
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, নির্বাচনটা কবে হবে? সাধারণ মানুষ কী ভাবছে? সাধারণ মানুষের ভাবনা নিয়ে আমি আমার এই ‘কথা’ চ্যানেলে একটি জরিপ করেছিলাম আজ থেকে দুদিন আগে। সেই জরিপে আমার প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. ফজলুর রহমানের একটা বক্তব্যকে কোট করেছিলাম, ওখানে তিনি বলেছিলেন, ড. ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেবেন বলে তার বিশ্বাস হয় না।
তো আমি প্রশ্ন করেছিলাম দর্শককে অথবা যারা ভোট দিয়েছেন তাদেরকে যে আপনার কি বিশ্বাস হয়? ওখানে দেখা গেল ‘বিশ্বাস হয়’ এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন ১৪ শতাংশ লোক, আর ‘বিশ্বাস হয় না’ এটা বলেছেন ৮১ শতাংশ লোক। আর ৫ শতাংশ লোক মন্তব্য করতে চাননি।
ঠিক দুদিন আগের দেওয়া এই জরিপে অংশ নিয়েছেন ৩৫ হাজার মানুষ। এত মানুষের মন্তব্যের মধ্যে ৮১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন না যে, ড. ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেবেন। এটা তিনি ভাবুন। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে, না এপ্রিলে হবে, না কোন মাসে হবে- সেটা আলোচনা যদি আমরা বাদও রাখি।
একটা কথা চিন্তা করেন। ড. ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি, যাকে দুনিয়ার মানুষ এক নামে চেনে, সেই লোকটার কথার ওপর সাধারণ মানুষ বিশ্বাস রাখতে পারছে না। আস্থা রাখতে পারছে না। তো ড. ইউনূসের জন্য এর চেয়ে ভয়াবহ আর কী তথ্য থাকতে পারে? উনাকে এদেশের মানুষ আর বিশ্বাস করে না।
যাকে বিশ্বাসই করি না, তিনি কিভাবে নির্বাচন করবেন একটা বিশ্বাসযোগ্য? এই কথাটা ভাবুন আপনারা একবার। এই বিষয়টাকে ড. ইউনূস নিজে উপলব্ধি করেন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ‘কথা’ নামের নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল, লন্ডনে সিদ্ধান্ত হয়েছে যদি সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয়, যদি সংস্কার ঠিকঠাক মতো হয় এবং অন্যান্য প্রস্তুতি ঠিকঠাক মতো নেওয়া যায়, তাহলে রমজানের আগের সপ্তাহেও নির্বাচন হতে পারে, হবে তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সব ঠিকঠাক হলেও নিশ্চয়তা নেই।
যদি সব ঠিকঠাক মতো হয়, তাহলে রমজানের আগের সপ্তাহ নির্বাচন হতে পারে। মানে একটা ছেলেভুলানো সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে এবং রমজানের আগের সপ্তাহে যদি হয়, তাহলে সে নির্বাচনের সময়টা এসে দাঁড়ায় ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে। আগামী বছরের এই যে একটা অনিশ্চিত তারিখ, একটা সম্ভাবনার কথা বলা- এতেই আমার যেন মনে হলো সেই সময় থেকে বিএনপির মধ্যে একটা বিরাট আনন্দের ভাব।
তিনি বলেন, এদেশে জনগণের কোনো মূল্য নেই। ড. ইউনূস জনগণকে মূল্য দেয় না- সেটা তো আমরা বলি বারবার। উনি উনার ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা হয় তা-ই বলে। কেন বলেন, কী সমাচার- কারো সঙ্গে কোনো ব্যাখ্যা করেন না, কোনো ব্যাখ্যা দেন না, মানলাম উনি রাজনীতি করেন না, উনার রাজনৈতিক দল নাই, জনগণের কাছে উনার কোনো জবাবদিহিতাও নাই, জনগণের কাছে উনার কোনো কমিটমেন্টও নাই। কিন্তু বিএনপি তো একটা পলিটিক্যাল পার্টি, তাদের কমিটমেন্ট থাকবে। সেটা আমরা দেখিনি, হতাশ হয়েছি। কিন্তু কী বলব, আমাদের হাত থেকে সমস্ত বিকল্প সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ দেশের মানুষ যে নির্বাচন নিয়ে টেনশন করছে, এটাকে উনারা কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. ইউনূসের সঙ্গে একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দুদিন আগে। সেই সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ। আলোচনার বিষয়বস্তু কী হতে পারে? মানে আবহাওয়া কেমন চলবে? গরম আরো বাড়বে কি বাড়বে না, বৃষ্টি নামবে কি নামবে না- নিশ্চয় এগুলো আলোচনার বিষয় নয়। হ্যাঁ, দুজন বৃদ্ধ মানুষ হয়তো শারীরিক কুশলাদি বিনিময় করতে পারেন।
তারপর মূল আলোচনাটা তো নির্বাচন। কারণ উনি তো প্রধান নির্বাচন কমিশনার। দেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তি সেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজকে সাংবাদিকদের সঙ্গে বসেছিলেন সেখানে উনি বললেন যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উনার কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ ছাড়া আর কিছু হয়নি। উনি বারবার বলতেছেন যে উনার সঙ্গে আমার আর কোনো আলাপ হয় নাই। খালি সৌজন্য সাক্ষাৎটাই হয়েছে। তো সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছেন উনি। ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক করেছেন তাহলে কেন? উনি কি জিজ্ঞাসা করবেন না যে আপনি যে লন্ডন থেকে আসলেন আপনি ওখানে তো নির্বাচন নিয়ে একটা কথা বলেছেন, তাহলে আমরা কি সেই অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব? এ কথাটা উনাকে জিজ্ঞাসা করাটা স্বাভাবিক ছিল না?
মন্তব্য করুন: