বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

চীনে রেকর্ড দামে বিক্রি মানবাকৃতির ‘লাবুবু’ পুতুল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১২ জুন ২০২৫, ১৮:১২

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে বিশাল আকারের একটি লাবুবু পুতুল। ১.৩১ মিটার (প্রায় ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি) উচ্চতার এই সবুজ রঙের মানবাকৃতির পুতুলটি বিক্রি হয় ১.০৮ মিলিয়ন ইয়ুয়ানে, যা মার্কিন ডলারে দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০,২৭৫ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি।

পুতুলটির নিলাম অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ১০ জুন, ‘ইয়ংল ইন্টারন্যাশনাল অকশন হাউস’-এর আয়োজনে। এই প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র লাবুবু পুতুল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নিলাম আয়োজন করা হয়। এতে সর্বমোট ৪৮টি লট বিক্রির জন্য তোলা হয় এবং সেখান থেকে আয় হয় প্রায় ৩.৭৩ মিলিয়ন ইয়ুয়ান (মার্কিন ডলারে ৫ লাখ ২০ হাজার)। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল

এই বিশালাকৃতির বিশেষ লাবুবু, যেটি তার বিরলতা ও ডিজাইনের জন্যই এত উচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে। একই নিলামে একটি বাদামি রঙের লাবুবুও বিক্রি হয় প্রায় ১.০৩ মিলিয়ন ইয়ুয়ানে এবং “থ্রি ওয়াইজ লাবুবু” নামের একটি তিনটি সেট বিক্রি হয় প্রায় ৮১,৬০০ মার্কিন ডলারে।

‘লাবুবু’ মূলত একটি ছোটখাটো চেহারার কিউট-ক্রিপি পুতুল, যার ডিজাইন করেছেন ইন্দোনেশিয়ান শিল্পী কেলভিন। ২০১৫ সালে তৈরি হলেও, ২০১৯ সালে এটি চীনের জনপ্রিয় ডিজাইনার টয় কোম্পানি Pop Mart-এর মাধ্যমে বাজারে আসে এবং খুব অল্প সময়েই কালেক্টরদের মধ্যে আলোড়ন তোলে। এরপর থেকেই এটি শুধু খেলনা নয়, এক ধরনের আর্ট কালেক্টিবল বা বিনিয়োগযোগ্য আইটেমে পরিণত হয়।

লাবুবু জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মূলত এর “ব্লাইন্ড বক্স” বিক্রয় মডেলের জন্য, যেখানে ক্রেতারা আগেভাগে জানতে পারেন না কোন চরিত্র বা রঙের পুতুলটি পাবেন। এই রহস্যময়তা ও সীমিত সংস্করণের মিশ্রণই কালেক্টরদের আকর্ষণ করে। মাত্র ৫০ ইয়ুয়ান দামের পুতুলের মধ্যেও বিরল সংস্করণ পাওয়ার আশায় অনেকে বাক্সের পর বাক্স কিনে থাকেন।

এরপর আসে সেলিব্রিটি প্রভাব। ব্ল্যাকপিংকের লিসা, ডেভিড বেকহ্যামসহ বহু আন্তর্জাতিক তারকাকে লাবুবু পুতুল হাতে দেখা গেছে। এর ফলে তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে টয় কালেক্টর, বিনিয়োগকারী ও ব্র্যান্ড লাভার- সবাই লাবুবুর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজাইনার টয় মার্কেট গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী বিশাল আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। লাবুবুর মতো ক্যারেক্টারগুলো এখন শুধু খেলার জিনিস নয়, বরং এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যম। সীমিত সংস্করণ ও নান্দনিকতার কারণে এর মূল্য সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে, যা অনেক সময় আর্ট পিস বা দামী ঘড়ির মতোই মূল্যবান হয়ে ওঠে।

এই নিলামের মাধ্যমে লাবুবু প্রমাণ করলো- সঠিক ব্র্যান্ডিং, গল্প আর সৃষ্টিশীল ডিজাইনের মিশেলে একটি খেলনাও হয়ে উঠতে পারে কোটি টাকার সম্পদ। অনেকে বলছেন, এটি ডিজাইনার টয়ের নতুন যুগের সূচনা।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর