বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ে যে দুঃসংবাদ দিলো কানাডা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৫ মে ২০২৫, ১৮:৩০

অনেক বছর ধরেই কানাডা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। উন্নতমানের শিক্ষা ব্যবস্থা, বন্ধুসুলভ অভিবাসন নীতি এবং স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সহজ সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি অনেকের স্বপ্নের দেশ। তবে, সেই স্বপ্নে এখন ছায়া ফেলেছে কানাডার নতুন ভিসা নীতির কড়াকড়ি। সম্প্রতি দেশটি স্টাডি পারমিটের সংখ্যা একলাফে ৩১% কমিয়ে দিয়েছে—যা অনেকের জন্য এক আকস্মিক ধাক্কা।

এই হঠাৎ পরিবর্তনের পেছনে কী আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডা এখন তার অভিবাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘সংখ্যার চেয়ে মান’–এ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। স্টাডি পারমিট কমানোর সিদ্ধান্ত মূলত দেশের শ্রমবাজার, অবকাঠামো ও অভিবাসন ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে যেসব শিক্ষার্থী কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে আবেদন করে রেখেছিল তাদের ওপর। ভিসা প্রক্রিয়ায় কী পরিবর্তন আসছে?

এই নতুন নীতির ফলে:

ভিসার জন্য অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হতে পারে,
আবেদন প্রক্রিয়া হতে পারে আগের চেয়ে ধীর,
ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে ব্যবসা, ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তির মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে ভর্তি কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর কানাডা-ভিত্তিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত।

পরিকল্পনা বদলাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা যেন বিকল্প দেশ—যেমন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্র—বিবেচনায় নেন, কারণ এসব দেশের নীতিমালা তুলনামূলকভাবে এখনো অনেক বেশি সহনশীল।
তাছাড়া, কানাডার কিছু নির্দিষ্ট প্রদেশ ও পাইলট প্রোগ্রামের সুযোগ খোঁজার কথাও বলা হচ্ছে, যেগুলোর শর্ত কিছুটা নমনীয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এখন সময় হয়েছে আরও শক্তিশালী আবেদন তৈরি করার—যাতে থাকে যথাযথ ডকুমেন্টেশন, পরিস্কার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ও প্রমাণযোগ্য শিক্ষা ও পেশাগত উদ্দেশ্য।

এই পরিবর্তন স্থায়ী, নাকি সাময়িক?

এই নীতিগত পরিবর্তন আপাতত ‘নিয়ন্ত্রণমূলক’ মনে হলেও, কানাডা ভবিষ্যতে আবারও আইনে পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ সরকার labor market, আবাসন ব্যবস্থা ও অভিবাসন ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়—এবং একইসাথে অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাও বজায় রাখতে চায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা

এই কঠোরতা একটি বার্তা বহন করে—আন্তর্জাতিক শিক্ষার পথে হঠাৎ বাঁক আসতেই পারে। তাই প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা জরুরি। যারা উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের উচিত নিয়মিত আপডেট থাকা, বিশ্বস্ত পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানো।

এক কথায়, কানাডার এই নতুন নীতিগত অবস্থান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আন্তর্জাতিক পড়াশোনার পথ সবসময় সরল নয়, তবে প্রস্তুতি থাকলে যে কোন চ্যালেঞ্জ পার হওয়া সম্ভব।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর