শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

এক ভূখণ্ড, দুই রাষ্ট্র, অগণিত কান্নার উপত্যকা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১ মে ২০২৫, ১৫:২৩

একটি উপত্যকা, যেখানে একদিন পাহাড়ের কোল ছুঁয়ে ছুটে যেত মুক্তোর মতো নদী। শিশির ভেজা ঘাসে ভোরের আলো ঝিকমিক করত, বাতাসে ভেসে বেড়াত বসন্তের গান। সেই কাশ্মীর আজ আতঙ্কের কুয়াশায় ঢাকা, নদীর জলে লেগে আছে রক্তের ছাপ, স্বপ্নগুলো ছিন্নভিন্ন বুলেটের শব্দে। কাশ্মীর এখন আর কেবল একটি ভূখণ্ড নয়—এ এক হারিয়ে যাওয়া সময়, যাকে ছিন্ন করেছে ইতিহাসের নির্মম কলম।

১৯৪৭। উপমহাদেশের বিভাজনের বছর। জন্ম নিল ভারত ও পাকিস্তান। জন্ম নিল বিভেদের, রক্তের, কান্নার আরেক অধ্যায়—কাশ্মীর সংকট। স্বাধীন একটি রাজ্য, যার শাসক হরিসিংহ হিন্দু, কিন্তু ৭৫ শতাংশ জনগণ মুসলিম। তিনি চেয়েছিলেন স্বাধীনতা, কারো সঙ্গে না জড়িয়ে। কিন্তু ইতিহাস কি কাউকে ছাড়ে?

অক্টোবরেই পাকিস্তান-সমর্থিত উপজাতীয়রা আক্রমণ চালায় কাশ্মীরে। বারামুল্লা শহরে প্রথম রক্ত ঝরে। শ্রীনগর পড়ে যায় অরক্ষিত অবস্থায়। ভারতীয় সেনা সহায়তার শর্ত রাখে—কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। ২৬ অক্টোবর, মহারাজা হরিসিংহ সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরদিন ভারতীয় সেনা নামে কাশ্মীরে। শুরু হয় যুদ্ধ, শুরু হয় বাস্তুচ্যুতি, শুরু হয় এক জাতির দীর্ঘ শোকযাত্রা।

১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়, সৃষ্টি হয় ‘লাইন অফ কন্ট্রোল’। প্রতিশ্রুত গণভোট? হারিয়ে যায় রাজনৈতিক ছলনায়। কাশ্মীর বিভক্ত হয়, কিন্তু হৃদয়গুলো? চিরকাল দ্বিখণ্ডিত থেকে যায়।

চীন এসে পড়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে। লাদাখের অংশ আকসাই চীন দখল করে। পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে সাক্সগাম উপত্যকা দিয়ে দেয় চীনকে। ১৯৬৫-তে আবার যুদ্ধ, অপারেশন জিব্রালটার, আবার মৃত্যু, আবার চুক্তি—তাসখন্দকাশ্মীরীদের কিছু স্বস্তি এসেছিল ৩৭০ অনুচ্ছেদে। নিজস্ব আইন, নিজস্ব পরিচয়—অন্তত ছিল একটুখানি স্বপ্ন। ২০১৯ সালে সেই স্বপ্নও ভেঙে যায়। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হয়। রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে কাশ্মীরকে ভাগ করা হয় দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। পুরো উপত্যকা নিমজ্জিত হয় নিঃশব্দ শোকে—নেট নেই, ফোন নেই, কণ্ঠ নেই।

সাত দশকের বেশি সময় কেটে গেছে। প্রশ্নগুলো আজও মীমাংসিত নয়। বরং প্রতিটি বছর, প্রতিটি সংঘর্ষ, প্রতিটি হারানো জীবন কাশ্মীরকে করে তুলেছে এক গা ছমছমে শোকস্মারক। এই উপত্যকা এখন আর কেবল ভূগোল নয়, এটা এক জীবন্ত স্মৃতি—যেখানে প্রতিটি পাথর, প্রতিটি নদী বয়ে নিয়ে চলে রক্ত, কান্না আর প্রশ্নের স্রোত।

কাশ্মীর এক নিশ্চুপ নদী—যার জলে ভাসে হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনার আর্তনাদ।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর