শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

২৮ কোটি টাকায় সংস্কারের তিন মাসেই সড়কে ধস

রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত:
৩ জুন ২০২৪, ১৬:৫৪

রংপুর নগর থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। নগরের বুড়িরহাট থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলার শংকরদহের সিরাজুল বাজার পর্যন্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার অংশের মেরামত ও বর্ধিতকরণের কাজ শেষ হয়েছে তিন মাস আগে। তবে বৃষ্টিতে সড়কের বর্ধিত অংশ ভেঙে যাচ্ছে। ওই ১১ কিলোমিটারে অন্তত ৪০টি স্থানে সড়কের পাশের মাটি ও ইট বিছানো অংশ ধসে পড়েছে।

রংপুর নগরের বুড়িরহাট এলাকা থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ওপর শেখ হাসিনা সেতুর ওপর দিয়ে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে যাওয়ার পথ। ওই সড়কে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করে।

১১ কিলোমিটারে অন্তত ৪০টি স্থানে সড়কের পাশের মাটি ও ইট বিছানো অংশ ধসে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রংপুর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং ও সড়ক বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হয় গত নভেম্বরে। প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। তিনটি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স খায়রুল কবির রানা, কে কে আর লিমিটেড ও বরেন্দ্র লিমিটেড যৌথভাবে কাজটি করেছে।

দরপত্র অনুযায়ী, ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট ইট বিছানো এবং ৩ ফুট করে দুই পাশে ৬ ফুট মাটি ফেলে প্রশস্ত করা হয়েছে। এখন বৃষ্টিতে সড়কের পাশে মাটি ও ইট বিছানো অংশ ভেঙে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে এলজিইডির রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী বলেন, পাথরবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কের বর্ধিত অংশ চাপ নিতে পারছে না। ফলে কিছু কিছু স্থানে সড়কের দুই পাশে ইট-মাটি ধসে পড়ছে। তিনি দাবি করেন, এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। যথানিয়মে কাজ হয়েছে।

শাহজাহান আলী বলেন, ‘গত শনিবার মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসেছি। যত দ্রুত সম্ভব সড়কের দুই পাশে বর্ধিত ইট ও মাটি ধসে পড়ার স্থান মেরামত করা হবে। ঠিকাদারের বিল পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। ঠিকাদারের মাধ্যমে মেরামত করা হবে।’

গতকাল রোববার (২ জুন) গিয়ে দেখা যায়, নগরের বুড়িরহাট এলাকা থেকে গঙ্গাচড়ার শংকরদহ এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটারে সড়কের পাশে অন্তত ৪০টি স্থান ভেঙে গেছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার হাবু পাঁচমাথা এলাকায় মহাসড়ক লাগোয়া পশ্চিম দিকে বড় গর্ত হয়েছে। সেখানে ইট-বালু সরে গিয়ে সড়ক ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের মুদিদোকান রয়েছে সড়কের পাশে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর এই রাস্তা খারাপ ছিল। এলাকার জনগণ রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এখন রাস্তা নির্মাণ করা হলো। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের পাশে ইট-মাটি ভেঙে পড়ছে। কী যে হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

গতকাল সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সড়কে অন্তত ১৫টি ভারী ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। এসব ট্রাক সড়কের ভেঙে পড়া অংশে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন হাতের ইশারায় গাড়ি ধীরে চলাচলের জন্য সতর্ক করে দিচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজন জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে রাতের বেলা পাথরবাহী ট্রাকগুলো আসে।

পাথরবাহী একটি ট্রাকের চালক বলেন, যেভাবে রাস্তার পাশের মাটি-ইট সরে যাচ্ছে, তাতে কখন যে কী বিপদ হয়, তা বলা যাচ্ছে না।

শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর পশ্চিম দিকে মহিপুর এলাকায় সড়কের এক পাশে ধস নেমেছে। এই এলাকার ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, রাস্তার পানি নেমে যাওয়ার সময় মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে ইট-মাটি বের হয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খুব দ্রুত মেরামত না করলে আস্তে আস্তে এই গর্ত আরও বড় হয়ে পুরো রাস্তা ভেঙে পড়বে।

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও আমদানিকারক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ১৪ ও ১৬ চাকার ট্রাকে পাথর পরিবহন হয় কমপক্ষে ৩৫ টন। এত ভার নিতে পারছে না এই সড়ক। এভাবে ভারী যানবাহন চলাচল করলে এই রাস্তা টিকবে না। ফলে ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর